
মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে মা ও সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১১ জানুয়ারি নয়াপাড়া গ্রামের একটি নির্জন বিলের পাশ থেকে ইসমত আরা ও তার চার বছরের শিশু আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের ধরন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের মনে এটি নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি আত্মহত্যা না কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
মরদেহ দুটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেই জায়গাটি লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে এবং নির্জন। ইসমত আরার মাথায় গভীর ক্ষত এবং রক্ত দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনো ভারী বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে শিশু আবরারের গলায় শ্বাসরোধ করার স্পষ্ট দাগ রয়েছে।
সাধারণত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে যে ধরনের আলামত থাকে, এখানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মনে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
একজন মা কি নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে মেরে নিজে মাথায় আঘাত করে আত্মহত্যা করতে পারেন?
মাথায় ইট বা শক্ত বস্তু দিয়ে নিজে নিজে আঘাত করে মৃত্যু হওয়া কতটা সম্ভব?
ঘটনার সময় আশেপাশে বাড়িঘর থাকলেও কেউ কোনো চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ কেন শুনতে পেলেন না?
নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মা ও শিশুকে অন্য কোথাও বা সেখানেই কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এবং সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
মন্তব্য করুন