
মহেশখালী শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আর্থিক অনিয়ম ও জাল সনদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে বড় ধরনের অভিযানে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। আগামী ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় এই বিশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম চলবে।
মহেশখালীর জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়েও একটি গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করবে ডিআইএ। অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ; যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, আবার দোষীরাও যেন কোনোভাবে পার না পায়।
তদন্তের আওতায় যেসব বিষয় থাকছে:
পরিদর্শনকালে শিক্ষা পরিদর্শক জনাব মো. আবু দাউদের নেতৃত্বাধীন দলটি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিচের নথিপত্রগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন:
১)শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ ও নিয়োগের রেকর্ড।
২)এমপিওভুক্তির আদেশ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৩)সরকারি অর্থ উত্তোলনের তথ্যাদি।
সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালা
পরিদর্শন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মহেশখালী ডিগ্রি কলেজে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের একজন সহকারী বা হিসাবরক্ষকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিআইএ-র বার্তা: শূন্য সহনশীলতা
ডিআইএ সূত্রে জানানো হয়েছে, উপ-পরিচালক সাহানুল কবির ভার্চুয়াল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবেন। যদি তদন্তে জাল সনদ বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, মহেশখালীর শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে জাল সনদের মাধ্যমে যারা শিক্ষকতা পেশাকে কলঙ্কিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।

মন্তব্য করুন