রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেও ভর্তি পরীক্ষা: চকরিয়ার বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন - দৈনিক পাঠক কণ্ঠ
সম্পাদকীয় কলাম
২ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেও ভর্তি পরীক্ষা: চকরিয়ার বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

                                                                                                                   অ- অ+

সারাদেশে যখন রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে, তখন সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী চকরিয়া উপজেলার একটি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করে এমন আয়োজনে স্থানীয় সচেতন মহল ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণত রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা কেবল কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং সরকারি অবকাঠামো ব্যবহারকারী একটি প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মকাণ্ডকে সাধারণ ‘অসতর্কতা’ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। একে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার এক চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন সামনে এসেছে:
সরকারি সব সুবিধা গ্রহণ করে কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অলিখিত স্বাধীনতা পাওয়া যায়?
‘বিশেষায়িত’ মর্যাদা কি কোনো প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতার ঊর্ধ্বে থাকার লাইসেন্স দেয়?

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশক। কিন্তু যখন একটি প্রতিষ্ঠান নিজেই নিয়ম ভাঙার দৃষ্টান্ত তৈরি করে, তখন শিক্ষার্থীদের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা পৌঁছায়। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে করতে পারে যে, পরিস্থিতিভেদে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা সম্ভব—যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের রাষ্ট্রচেতনা ও শৃঙ্খলাবোধকে দুর্বল করে দেয়।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পর শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও কঠোর তদারকি থাকলে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তাদের মতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের চেয়ে নিজস্ব স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।

রাষ্ট্রীয় শোক পালন কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ। সরকারি সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবানের লামায় ৮ কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা শুরু

হারবাংয়ে ৩০শতক বনভূমি দখলমুক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রামুতে পারিবারিক কলহে চকরিয়ার ব্যবসায়ী তাকিব’র মৃত্যু

জনস্বাস্হ্য  সুরক্ষায়, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি ফলনে বায়োপেষ্টিসাইড ব্যবহারের বিকল্প নেই 

চকরিয়ায় বালু উত্তোলনে প্রাণগেল এক শ্রমিকের

জ্বালানী খাতে সক্ষমতাবৃদ্ধিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নাই

বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময়

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড – বিজিএলসি

নববর্ষের প্রেরণা: ঐতিহ্য, মানবতা ও পরিবেশ সচেতনতার অঙ্গীকার

সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

১০

মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস,আমাদের যুব সমাজ!

১১

হায়দারনাশী গ্রামার স্কুল’এ বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় 

১২

প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিল

১৩

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৪

লামা সদর ইউপি নির্বাচনে শামসুল হকের মেম্বার পদের প্রার্থীতা ঘিরে ইতিবাচক সাড়া!

১৫

‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

১৬

অধ্যাদেশ বাতিল নয়, সংসদে আইনে পরিণতের দাবি : মোহাম্মদ উল্লাহ

১৭

“লামা সরকারি মাতামুহুরি কলেজে সাইবার অপরাধ বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত”

১৮

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ  জেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম উদ্দীন বহিষ্কার

১৯

১০০ দিনের প্রতিশ্রুতি পূরণ: সচল হলো টেকনাফ বন্দর

২০
Developed by : BDIX ROOT