
একজন নিভৃতচারী মানুষ, যিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিরলসভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো। ৩৬ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে আজ তিনি কেবল একজন সফল শিক্ষকই নন, বরং একটি আদর্শ পরিবারের রূপকার। তিনি মো. আব্দুল অদুদ। বান্দরবানের আলীকদম ও কক্সবাজারের শিক্ষা অঙ্গনে এক পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম।
শেকড় ও কর্মময় জীবন
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী গ্রামে জন্ম নেওয়া মো. আব্দুল অদুদ পৈতৃক ভিটার মায়া অমলিন রেখে স্থায়ী হন বান্দরবানের আলীকদমের পানবাজারে। দুর্গম পাহাড়ী জনপদে শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দেন তিনি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ২ মাস ১ দিনের গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারে তিনি আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বান্দরবান জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে তিনি কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। একজন নীতিবান শিক্ষক হিসেবে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে ‘নির্ভরতার আশ্রয়’ হয়ে ছিলেন দীর্ঘ সময়।
সন্তানদের কৃতিত্বে আলোকিত মুখ
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে মো. আব্দুল অদুদ এক সফল কারিগর। তাঁর দুই সন্তান আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করছেন।
বড় ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার: বড় ছেলে নাজমুস সাকিব চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিদেশের মাটিতে সম্মানের সাথে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর সহধর্মিণী নুসরাত ফারজানা প্রিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ছোট ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট: ছোট ছেলে মো. তায়েফ উল্লাহ হুজাইফও চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ ও চট্টগ্রাম কলেজের আঙিনা পেরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। তবে তাঁর মেধা ও জনসেবার ইচ্ছা তাঁকে নিয়ে গেছে সিভিল সার্ভিসে। বর্তমানে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্ত্রী তামজিদা আহমদ তাসনিমও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
মো. আব্দুল অদুদের জীবনগাথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সুশিক্ষা, শিষ্টাচার আর নীরব সাধনার মাধ্যমেই একটি প্রজন্মকে বদলে দেওয়া সম্ভব। তাঁর পরিবার আজ কেবল আলীকদম নয়, বরং পুরো চট্টগ্রামের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সৎ নিষ্ঠা আর শিক্ষার প্রতি অবিচল বিশ্বাস থাকলে কীভাবে ব্যক্তি ও পরিবারকে সমাজের শিখরে তোলা যায়, আব্দুল অদুদ যেন তারই জীবন্ত বিজ্ঞাপন।
একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক যখন সফল পিতার আসনে আসীন হন, তখন সমাজ পায় একটি নতুন দিকনির্দেশনা। আব্দুল অদুদের এই কর্মময় ও গৌরবোজ্জ্বল জীবনের গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
মন্তব্য করুন