আবু সালাম
দীর্ঘদিন পর প্রবাস জীবন থেকে ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন পরিবারের সান্নিধ্য পেতে। স্বজনদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটিয়ে ফের দুবাই ফেরার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর ফেরা হলো না কর্মস্থলে; ফেরা হলো না বাড়িতেও। ঘাতক বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে চিরতরে নিভে গেল টগবগে যুবক শফিউল আলম আয়াসের (২৫) জীবনপ্রদীপ।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ঢালায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এই প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহত আয়াস চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দঃ সেলিম উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আয়াস ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে এসেছিলেন প্রিয়জনদের সময় দিতে। ছুটি শেষে যখন আবার জীবিকার তাগিদে দেশ ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই রোববার দুপুর ১২টার দিকে নেমে আসে এই অমানিশা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের বাসটি যখন ফাঁসিয়াখালী ঢালায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা আয়াসের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আয়াসের এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের কান্না নয়, এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার এক করুণ চিত্র। স্থানীয়দের কাছে এই মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী আবারও সরব হয়েছেন মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত এই মহাসড়কটি এখনো ৪ লেনে সীমাবদ্ধ। দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাস এবং স্থানীয় ধীরগতির যান একই লেনে চলার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন প্রাণহানি।
বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বহুবার মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালন করা হলেও ৬ লেনের দাবি পূরণ হয়নি। তাদের মতে, পৃথক লেন এবং ৬ লেনের প্রশস্ত সড়ক নিশ্চিত করা গেলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে দুর্ঘটনাপ্রবণ ফাঁসিয়াখালী ঢালায় নেই পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা ফুটওভার ব্রিজ।
সচেতন মহলের দাবি, আর কত মায়ের বুক খালি হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল মৃত্যু রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন