মো.মুজিব উল্ল্যাহ্য তুষারঃ জাতীয় নির্বাচনের পরই আলোচনায় আসে স্হানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ। গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি)। এরপর থেকেই আলোচনা শুরু হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে।
২০২৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে এর মাঝে বসে নেই প্রার্থীরা বিশেষ করে নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। নারীদের অগ্রগতির জন্য যোগ্য এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১ (সাধারণ ওয়ার্ড ১,২,৩) কাউন্সিলর প্রার্থী জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক সম্পাদক ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আলম মূলত নারীদের আত্মকর্মসংস্থান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরেন। এছাড়াপারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ নারীদের জন্য আইনি সহায়তা এবং টিসিবি ও ফ্যামেলি কার্ডের সুবিধা নারীদের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও তার প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
তিনি জানান আমি কাউন্সিল নির্বাচিত হলে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডিজিটাল লাইব্রেরি, মাদক নির্মূল ও ফুটপাত দখলমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড উপহার দেব।
কাউন্সিল প্রার্থী নাসিমা আলম বলেন, ‘পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের অধিকার আদায় করতে আমি প্রার্থী হয়েছি। নারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিভিন্ন সময় কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতায় পড়তে হয। পুরুষেরা যতই নারীর মর্যাদার কথা বলুন না কেন, তাঁরা সর্বদা নারীকে বৈষম্যের চোখে দেখেন।
নারীর প্রতি বৈষম্যের অভিজ্ঞতাই আমাকে নারী সমাজের নেতৃত্ব দিতে উৎসাহিত করেছে।’ তিনি বলেন, দুস্থ নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তিই তাঁর প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।
নাসিমা আলম আরো বলেন, আমি ২০১৫ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১ (সাধারন ওয়ার্ড ১,২,৩) নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি কিন্তু আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমাকে কাউন্সিলর ঘোষণা না করে তাদের দলের মনোনীত প্রার্থীকে কাউন্সিল হিসেবে ঘোষণা করে। আমার নির্বাচনীয় এলাকায় ভোটারগন আমাকে ভোট দিয়েছে তাই আমি কাউন্সিল না হয়েও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছি। আগামীতেও কাজ করে যাবো। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) সকল আন্দোলন সংগ্রাম তথা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলাম। দলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে দল আমাকে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিবেন এইটা আমার বিশ্বাস।
মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিমা আলমের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো:
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করা: সেলাই প্রশিক্ষণহস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ: কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি।
বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ: এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং স্কুল-কলেজ যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: পারিবারিক সহিংসতানারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
গড়ে তোলা এবং আইনি সহায়তা প্রদান।
নাগরিক সেবা: জন্ম নিবন্ধনওয়ারিশ সনদ ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা সহজেই ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ এলাকা: এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থারাস্তা মেরামতস্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
নিরাপদ সড়ক : পথচারীদের চলাচলে সমস্যা না হয় সেজন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং অক্সিজেন মোড় ও শের শাহ লিংক রোড় মোড়ে রাস্তা পারাপার দূর্ঘটনা প্রতিরোধে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা।
মূলতনারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান সংরক্ষিত ওয়ার্ড় ১ এর কাউন্সিল প্রার্থী নাসিমা আলম।