
বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। শৈশবের চপলতায় মেতে থাকা সেই হাসি-খুশি মুহূর্ত যে মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে বাড়ির পাশের গর্তের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে মো. নোমান (৬) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৫) নামের দুই অবুঝ শিশু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান স্থানীয় আব্দুল মাবুদের ছেলে এবং জান্নাতুল একই এলাকার বেলাল উদ্দিনের মেয়ে। সম্পর্কে তারা একে অপরের প্রতিবেশী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বাড়ির পাশের উঠান থেকে মাটি খনন করার ফলে সেখানে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টির পানিতে গর্তটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে অনেকটা ছোট পুকুরের রূপ নিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোমান ও জান্নাতুল ওই গর্তের পাশেই খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত দুজনেই গভীর পানিতে পড়ে যায়। জান্নাতুলের মা দূর থেকে শিশুদের পানিতে পড়ে যেতে দেখে আর্তচিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শিশুদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নোমানের দাদা নুরুছ শফা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “কয়েকটা দিন আগেই মাটি তোলার জন্য এই গর্তটা করা হয়েছিল। বৃষ্টির পানি জমে সেটা যে আমাদের কলিজার টুকরোদের কেড়ে নেবে বুঝতে পারিনি। চোখের নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল হক (সোনা মিয়া) জানান, “এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমরা বিষয়টি চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেছি।”
দুই শিশুর এই অকাল মৃত্যুতে পুরো সাহারবিল ইউনিয়নজুড়ে এখন শোকের ছায়া বিরাজ করছে। পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অনাদরে ফেলে রাখা গর্ত যে অবুঝ শিশুদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
মন্তব্য করুন