
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সমতল অঞ্চলে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৫টি পরিবারের মধ্যে ছাগল ও ঘর নির্মাণের উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা পরিবারগুলোর জীবনমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় চকরিয়া প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুবিধাভোগী প্রতিটি পরিবারকে ২টি করে মোট ৯০টি উন্নত জাতের ছাগল হস্তান্তর করা হয়। শুধু ছাগলই নয়, ছাগলের ঘর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সিআই সিট, মজবুত পিলার এবং ফ্লোর ম্যাটও প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো— শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি করাই নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মো. আলমগীর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন, ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, মো. গিয়াসউদ্দিন, মুজিবুর রহমান ও সাইদ আল করিম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই ছাগলগুলো শুধু প্রাণী নয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই পরিবারগুলোর জন্য এগুলো ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। সুফলভোগীরা যদি সঠিকভাবে ছাগলগুলো লালন-পালন করতে পারেন, তবে তা তাদের জীবনমান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে ৪৫টি পরিবার নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে, যা চকরিয়ার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন