আবু সালাম
চকরিয়ার মানিকপুর ও লামার ফাইতং এলাকায় ইটভাটা উচ্ছেদ করতে গিয়ে উত্তেজিত কয়েক হাজার শ্রমিক জনতার প্রতিরোধের মুখে পরিবেশ অধিদপ্তর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজন অবশেষে পিছু হঠলেন। এসময় ছিকলঘাট-মানিকপুর সড়কে প্রায় ৪ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। অবরোধ চালাকালে উভয়মুখী শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।
চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর ও লামা উপজেলার ফাইতং এলাকার ইটভাটা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গেল ১৬ নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ওইসব এলাকায় শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। যার বিষ্ফোরণ ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী বাদশাহ্ এর টেক নামক স্থানে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম গেল ১৬ নভেম্বর চকরিয়ার মারিনকপুরস্থ তিনটি ইটভাটা ভেঙ্গে দে। এ ঘটনার পর থেকে লামার ফাইতং এলাকায় শ্রমিক জনতা সড়কে কাপনের কাপড় পড়ে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ করতে থাকে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের লোকজনকে ইটভাটা এলাকায় পৌছতে দেয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের লোকজন ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার খবর পেয়ে শ্রমিক জনতা ছিকলঘাট-মানিকপুর সড়কের বাদশার টেক এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করে। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ বিজিবি ও সেনাবাহিনী মারমুখী জনতাকে সড়ক থেকে অবরোধ সরাতে শত চেষ্টা করেও প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এসময় শ্রমিক ও জনতার ছুড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে প্রশাসনের দুটি গাড়ী ও একটি স্কেবেটর ভাঙচুর হয়। পরিবেশ মারাত্মক উত্তপ্ত হলে পুলিশ তিন ৪/৫ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করেছে বলে স্থানীয় লোকজন দাবী করেছে। এসময় অজ্ঞাতনামা একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে ১৬ নভেম্বরের প্রতিরোধের ঘটনায় কক্সবাজার-১ আসনের এবি পার্টির এমপি প্রার্থীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ৪শ জনের বিরুদ্ধে লামা থানায় সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারের ঘটনার ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে অবহিত করেনি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন বলে তিনি দাবী করেছেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- ঘটনার সময় চকরিয়া থানার সহায়তা চাওয়া হয়েছে, সে মোতাবেক পুলিশও পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রিয় কাজে বাধা, সরকারী যানবাহন ভাঙচুর এর ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর থানায় কোন অভিযোগ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাখিল করেনি। ইটভাটা মালিক মাস্টার খাইরুল ইসলাম দাবী করেছেন উচ্চ আদালতে মামলা থাকার পরেও পরিবেশ অধিদপ্তর গায়ের জোরে ইটভাটা উচ্চেদ করতে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকায় এ গণবিষ্ফোরণ ঘটেছে। তিনি দাবী করেছেন- পরিবেশ বান্ধব ইট তৈরীর বিকল্প ব্যবস্থা না করে ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকলে হাজার হাজার শ্রমিক যেমন বেকার হয়ে পড়বে তেমনি মালিকপক্ষ চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আমি নির্বাচিত হলে একটি আধুনি ওয়ার্ড উপহার দেব- কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিমা আলম
১
আর কত নারী-শিশু ধর্ষিত হলে বন্ধ হবে এই নৃশংসতা! – শিশু কিশোর সংহতি সংগঠনের মানববন্ধনে বক্তারা
২
চকরিয়া পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ড ইমারত জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন
৩
জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে চকরিয়ায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
৪
কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নিতে এমপি কাজলকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন
৫
ফাঁসিয়াখালীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য যাচাই কার্যক্রমের উদ্বোধন