
মোঃ আলমগীর হোসেন রানা
চকরিয়া পৌরশহরের ব্যস্ততম এলাকা চিরিংগা কাঁচাবাজার। এখানকার ডাক্তার হালিম মার্কেটে প্রতিদিনের মতোই বেচাকেনা চলছিল। কিন্তু এর মাঝেই ঘটে যাচ্ছিল এক ভয়াবহ প্রতারণা। মোহাম্মদ কালু নামের এক মুরগি ব্যবসায়ী লোকচক্ষুর আড়ালে (কখনও বা প্রকাশ্যে) মরা মুরগি জবাই করে তাজা মাংস হিসেবে তুলে দিচ্ছিলেন ক্রেতাদের হাতে।
কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে কিছুই বেশিক্ষণ চাপা থাকে না। কেউ একজন সেই দৃশ্য ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পৌঁছায় প্রশাসনের ডেস্কে।
রোববার, ১৪ ডিসেম্বর বিকেল। ভিডিওর সূত্র ধরে বাজারে উপস্থিত হন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব। সাথে ছিলেন পৌরসভা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. হায়দার আলী। শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।
অভিযোগের সত্যতা মিলতেই হতবাক উপস্থিত জনতা। যে বিশ্বাসের সাথে তারা বাজার করেন, সেই বিশ্বাসে এমন বিষ মেশানোর দায়ে ব্যবসায়ী কালুকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব জানান, শুধু জরিমানা নয়, এটি একটি বার্তা। খাদ্যে ভেজাল বা মরা প্রাণী বিক্রির মতো জঘন্য কাজ করলে পরিণতি এমনই হবে। একইসাথে তিনি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা টাঙানোর কড়া নির্দেশ দেন।
৫০ হাজার টাকার এই জরিমানা হয়তো কালুর পকেটে টান ফেলেছে, কিন্তু জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়—আমাদের অসচেতনতার সুযোগে আর কত কালু এমন প্রতারণা চালিয়ে যাবে?
মন্তব্য করুন