মৌলভী ছাঈদুল হক ফাউন্ডেশন আয়োজিত শহীদ জিয়া স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী—এই পাঁচ উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ৪৩১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তবে এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হলো নাদিরা আহমেদ। চকরিয়া উপজেলার এই কৃতি শিক্ষার্থী পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সামগ্রিকভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং নিজ উপজেলা চকরিয়ায় অর্জন করেছে প্রথম স্থান। এই ফলাফল নাদিরার মেধা, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং শেখার প্রতি তার গভীর নিবেদনকেই আবারও তুলে ধরেছে।
নাদিরা হারবাংয়ের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চকরিয়া পৌরসভার অধিবাসী। তার বাবা জসিম উদ্দিন এবং মাতা সাগরিকা সুলতানা। নাদিরার শিক্ষক জানান, তিনি এমন একজন শিক্ষার্থী যার অধ্যবসায়ের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। শিক্ষক মন্তব্য করেন, “হাল না ছাড়া তার সহজাত শক্তি। সে জানে, সফলতার মূল মন্ত্র হলো পরিশ্রম।”
নাদিরা আহমেদের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। এর আগেও সে কিশোর কণ্ঠ, পং বৃত্তি এবং নতুন কুঁড়িসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেকে যাচাই করেছে। এসব প্রতিযোগিতায় কখনও বাধা এসেছে, আবার কখনও মিলেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য—কিন্তু প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশেষত, নতুন কুঁড়িতে ‘এ প্লাস’ অর্জন তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই এক শক্তিশালী প্রমাণ।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীর সক্ষমতা বুঝে তাকে সাহস জোগানো একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। নাদিরার শিক্ষকরা তার সেই সক্ষমতার ওপর ভরসা রেখেই তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় পরিচিতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলেও শহীদ জিয়া মেধাবৃত্তি পরীক্ষা বরাবরই এর কঠোর মানদণ্ড, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য সুপরিচিত। অভিভাবক ও শিক্ষকমহলের কাছে এই বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব তাই অন্য যেকোনো পরীক্ষার চেয়ে আলাদা। এই প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোই নিশ্চিত করে যে, একমাত্র মেধা, মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এখানে সাফল্য আসে।
ফলাফল ঘোষণার সময় স্মরণ করা হয় ফারিহা আক্তার পৌষিকীকে, যিনি কয়েক বছর আগে একই পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী। মেধা, পরিশ্রম এবং নৈতিক পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই শিক্ষার্থীই এখন পুরো অঞ্চলের জন্য প্রেরণার উৎস।
নাদিরা আহমেদের এই অভাবনীয় সাফল্য শুধু তার পরিবার নয়, বরং পাঁচ উপজেলার অসংখ্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক উৎসাহের বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্যেও যোগ্যতা দিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। শহীদ জিয়া মেধাবৃত্তি এই অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মান এবং স্বচ্ছতার এক নির্ভরযোগ্য কাঠামো হিসেবে তার মর্যাদা বজায় রেখেছে।
মন্তব্য করুন