রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে মিরপুরের পল্লবী, সেকশন-১২ ব্লক-সি’র একটি হার্ডওয়্যার দোকানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং বেরিয়ে এসেছে রিকশাচালককেও গুলি করার মতো নতুন তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা তিন দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথা, বুক ও পিঠে মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কিবরিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডটি আরও অমানবিক রূপ নেয় যখন দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশায় পালানোর সময় রিকশাচালক আরিফকেও গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শী মো. পিয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি সড়কের পাশে আহত আরিফকে দেখতে পেয়ে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢামেকে নিয়ে যান। আহত আরিফ পুলিশকে জানিয়েছেন, দুই হেলমেটধারী লোক তার রিকশায় উঠে দ্রুত চালাতে বললেও ব্যাটারিতে চার্জ কম থাকায় তিনি গতি বাড়াতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। রিকশাচালক আরিফ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আশপাশের লোকজনের সহায়তায় এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে বর্তমানে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পল্লবী থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান জানান, তারা আটক যুবকের মাধ্যমে বাকি দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডটি দলীয় কোন্দল নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। এখনো মামলা দায়ের না হলেও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে জড়ো হন যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যা। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কিবরিয়ার হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পল্লবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন