চকরিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী এলাকায় ভুয়া ও জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাতে চকরিয়া পৌর সদরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলিমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, পৌরসভার বাটাখালী মৌজায় এক একর ১০ শতক জমির মালিক ছিলেন স্থানীয় আবুল খায়ের ও ফজল মাতবর। আবুল খায়ের জীবদ্দশায় ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে দুইটি দলিলের মাধ্যমে ৫০ শতক জমি সাফকবলা বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে তার ওয়ারিশগণ আরও ৬ শতক জমি বিক্রি করে উক্ত জমির উপর তাদের স্বত্ব ত্যাগ করেন।
তিনি আরও জানান, ভুলবশত বিএস রেকর্ডে আবুল খায়েরের ওয়ারিশদের নামে পূর্বে বিক্রিত জমি পুনরায় রেকর্ড হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে জমির ক্রেতা পৌরসভার কাহারিয়া ঘোনা এলাকার শফিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা বিএস সংশোধনী মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত বাটাখালী মৌজার বিএস ৭১, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর খতিয়ান ভুল ও মনগড়া ভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে মর্মে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। আদালতের ওই রায়ের ভিত্তিতে শফিকুর রহমানের ওয়ারিশদের নামে বিএস ২১৫ নম্বর খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, পরবর্তীতে ওই তিন খতিয়ানের ৯৬ শতক জমিসহ ফজল মাতবর গংয়ের অবশিষ্ট ১৪ শতক জমি আমরা ক্রয় করি। ফলে আবুল খায়েরের ওয়ারিশ হাবিবুন্নবী গং উক্ত জমিতে নিঃস্বত্ব বলে গণ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির অপর মালিক নুরুল ইসলামের ছেলে জিয়াউদ্দিন ছোটন বলেন, হাবিবুন্নবী একজন প্রতারক। তিনি নিজের নামে এবং তার স্ত্রীর নামে দুটি ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, একটি দলিল লক্ষ্যারচর মৌজার এবং অন্যটি কাকারা মৌজার নামে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, এসব জাল দলিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে কক্সবাজার সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. বজলুল করিমের তদন্ত প্রতিবেদনে হাবিবুন্নবী ও তার স্ত্রীর নামে তৈরি দলিলগুলো জাল ও নকল বলে প্রমাণিত হয়। এ মামলায় হাবিবুন্নবী জেলও খেটেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আইনি প্রক্রিয়ায় পরাজিত হয়ে ওই প্রতারক চক্র এখন বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রশাসন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা।