
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে CR ৯৯৩/২৪ নম্বর মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক মোঃ সাদিক ফরহান শুনানি শেষে তাদের আবেদন খারিজ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়,আত্মসমর্পণকারী আসামিরা হলেন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও আওয়ামী লীগ নেতা, মৃত মোহাম্মদ ইসমাঈল এর পূত্র সোহরাব হোসেন নান্নু (৪৫), তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেরিন (ইরফানের স্ত্রী)। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত তা গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ রমজান লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী তসলিমা খানম মিনু তার পৈতৃক ভিটায় বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করলে মিজবাহ উদ্দীন ও সোহরাব হোসেন নান্নুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। উক্ত হামলায় তসলিমা খানম মিনু, তার স্বামী ও সন্তান গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে চকরিয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি পলাতক ছিলেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তসলিমা খানম মিনু বলেন, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পরও আসামিরা বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি কর্মস্থলেও গিয়ে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরো বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আজ ৩ ও ৪ নম্বর আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। এতে আমি ন্যায়বিচারের আশায় আছি। তবে ১ ও ২ নম্বর আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ—অবশিষ্ট আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আসামিদের আত্মসমর্পণ এবং জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত পরবর্তীতে নির্ধারণ করবেন।
মন্তব্য করুন