গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ১ লাখ মানুষ- জার্মান গবেষণা - দৈনিক পাঠক কণ্ঠ
দৈনিক পাঠক কণ্ঠ, অনলাইন ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ১ লাখ মানুষ- জার্মান গবেষণা

                                                                                                                   অ- অ+

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছর ধরে আগ্রাসন চালিয়েছে ইসরায়েল। বর্বর এই আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

মূলত জার্মান এই গবেষণায় সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে উঠে এসেছে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির চিত্র। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা এতদিন যা ধারণা করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সোমবার জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা জাইট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী রস্টকের খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চের একদল গবেষকের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে অন্তত এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বা নিহত হয়েছে।

গবেষণা প্রকল্পটির কো-লিডার ইরিনা চেন জানান, “সঠিক মৃতের সংখ্যা আমরা কখনোই জানতে পারব না। আমরা শুধু যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত একটি অনুমান করতে চেষ্টা করছি।”

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে গাজা উপত্যকায় ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বা তারা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যবর্তী বা গড় অনুমান ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জন।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত এই চিত্র তৈরি করেছেন। গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি তারা একটি স্বাধীন পরিবারভিত্তিক সমীক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদও এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এতদিন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যার একমাত্র সরকারি উৎস ছিল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে তারা ৬৭ হাজার ১৭৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। তবে জাইট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের পরিসংখ্যানগত কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্টো বিভিন্ন গবেষণা দল আগেই দেখিয়েছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত রক্ষণশীলভাবে হিসাব করে থাকে। এখন ভালোভাবেই নথিভুক্ত হয়েছে যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে সরকারি সংখ্যার চেয়ে বাস্তবে আরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বিভিন্ন গবেষণাতেই অপ্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা যে বেশি, তা বারবার উঠে এসেছে।

এছাড়া গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেবল নিশ্চিত মৃত্যুর তথ্যগুলোই গণনা করে— যেমন হাসপাতাল থেকে ইস্যুকৃত মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে। যুদ্ধের কারণে অনেক হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তারা স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংবাদও গ্রহণ করে; পরে একটি প্যানেল সেগুলো যাচাই করে। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে যারা মারা যান, তাদের অনেকেই এসব রেকর্ডে ধরা পড়ে না।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের এই গকেষণা দলটি আগের গবেষণার ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত মৃত্যুহার বিশ্লেষণ করেছে। তারা পুরুষ ও নারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সভিত্তিক হিসাব আলাদাভাবে পরীক্ষা করেছে।

এ পদ্ধতিতে শুধু মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরও নির্ভুলভাবে জানা যায় না, বরং কারা মারা গেছে— তা নিয়েও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। লিঙ্গ ও বয়সভেদে মৃত্যুর রেকর্ডের তথ্য পরিবর্তিত হয়; নারীদের মৃত্যু অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় কম নথিবদ্ধ হয়। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মৃত্যু প্রায়ই সরকারি হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়।

গবেষকদের হিসাবে, মৃতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী।

এছাড়া গবেষকরা যুদ্ধের কারণে গাজার জীবনযাত্রার ওপর প্রভাবও হিসাব করেছেন। যুদ্ধের আগে গাজায় নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর, পুরুষদের ৭৪ বছর। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী নারীদের জন্য এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৬ বছরে এবং পুরুষদের জন্য ৩৬ বছরে। এটি আপাতত একটি পরিসংখ্যানগত মান।

এর অর্থ হলো— যদি সাম্প্রতিক বছরের মতো একই মাত্রায় যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে ফিলিস্তিনিরা গড়ে এই বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারবেন। আর এসব পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, গাজার সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রামুতে পারিবারিক কলহে চকরিয়ার ব্যবসায়ী তাকিব’র মৃত্যু

জনস্বাস্হ্য  সুরক্ষায়, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি ফলনে বায়োপেষ্টিসাইড ব্যবহারের বিকল্প নেই 

চকরিয়ায় বালু উত্তোলনে প্রাণগেল এক শ্রমিকের

জ্বালানী খাতে সক্ষমতাবৃদ্ধিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নাই

বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময়

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড – বিজিএলসি

নববর্ষের প্রেরণা: ঐতিহ্য, মানবতা ও পরিবেশ সচেতনতার অঙ্গীকার

সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস,আমাদের যুব সমাজ!

হায়দারনাশী গ্রামার স্কুল’এ বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় 

১০

প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিল

১১

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১২

লামা সদর ইউপি নির্বাচনে শামসুল হকের মেম্বার পদের প্রার্থীতা ঘিরে ইতিবাচক সাড়া!

১৩

‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

১৪

অধ্যাদেশ বাতিল নয়, সংসদে আইনে পরিণতের দাবি : মোহাম্মদ উল্লাহ

১৫

“লামা সরকারি মাতামুহুরি কলেজে সাইবার অপরাধ বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত”

১৬

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ  জেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম উদ্দীন বহিষ্কার

১৭

১০০ দিনের প্রতিশ্রুতি পূরণ: সচল হলো টেকনাফ বন্দর

১৮

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসে লামায় ফুটবল ম্যাচ, ট্রাইব্রেকারে আলীকদমের জয়

১৯

চকরিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তমা কনস্ট্রাকশনের প্রতিশ্রোত নির্ধারিত বিকল্প সড়কের দাবীতে মানববন্ধন

২০
Developed by : BDIX ROOT