
মুহাম্মদ এমরান, বান্দরবান
পার্বত্য বান্দরবানের ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যান পাড়ায় অবস্থিত আশা হফনুং আনন্দময়ী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাহাড়ি অসহায় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা সদর ইউনিয়নের আগামী দিনের কান্ডারী হিসেবে পরিচিত, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও লামা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ আবদুর রহিম।
অনুষ্ঠানে মোঃ আবদুর রহিম শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ তুলে দেন এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি বা সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ—তাই নিয়মিত স্কুলে আসবে, মন দিয়ে পড়াশোনা করবে।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পথে যে কোনো বাধা দূর করতে তিনি সর্বদা পাশে থাকবেন। শিক্ষাজীবনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠানো এবং পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সার্বিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং এই ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক শিশু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষা উপকরণ থেকে বঞ্চিত থাকে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সহায়ক হবে।
এ সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করাতে হয়। আজ স্কুল ব্যাগ পেয়ে শিশুরা খুব আনন্দিত। এতে তাদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ আরও বাড়বে।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান অতিথিরা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন