
চকরিয়া প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে সুন্নি জোটের কোনো প্রার্থী না থাকায় সুন্নি ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সুন্নি জোটের একটি উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক থাকলেও এবার সেই ভোট কোন প্রার্থীর ঝুলিতে যাবে—এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্নি জোটের ভোটাররা মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একাংশ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর দিকে ঝুঁকছেন, অন্য অংশ জামাত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক-এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।
সালাহউদ্দিনের পক্ষে যাওয়ার যুক্তি
সুন্নি জোটের একটি বড় অংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন টেকসই উন্নায়ন আনতে হলে বৃহৎ ও সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সে কারণে তারা বিএনপি প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে কৌশলগতভাবে সমর্থন দিচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, “ভোট নষ্ট না করে এমন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে চাই, যিনি বাস্তবসম্মতভাবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।”
জামাতের সাথে সুন্নিজোটের ভোটারদের মধ্যে আকিদাগত প্রার্থক্য থাকলেও আবদুল্লাহ আল ফারুকের প্রতি ব্যাক্তিগত ভালবাসার কারণে অগ্রাধিকার দেওয়া ভোটারদের একটি অংশ ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
সুন্নি জোটের নীরব ভূমিকার
বিষয়ে সুন্নি জোটের স্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে কোনো দিকনির্দেশনা না দিলেও ভেতরে ভেতরে ভোটারদের ‘নিজ নিজ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তই এবার নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভোটের মাঠে প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুন্নি জোটের এই বিভক্ত ভোটই কক্সবাজার-১ আসনের ফল নির্ধারণে “সুইং ফ্যাক্টর” হিসেবে কাজ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই ভোট কার দিকে বেশি যাবে—সালাহউদ্দিন আহমদের ধানেরশীষ নাকি আবদুল্লা আল ফারুকের দাঁড়িপাল্লা —তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।
মন্তব্য করুন