
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্ট ভুক্ত দুই সহোদর আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
ওয়ারেন্ট থাকার পরও আইনকে তোয়াক্কা না করে ঘোরাফিরার সময় থানার আশপাশ এলাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুরে এসআই তাপষের নেতৃত্বাধীন টিম তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করেন।
গ্রেফতারকৃত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীরা হলেন, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড রোস্তম আলী চৌধুরী পাড়ার মৃত ইসমাইল চৌধুরীর পূত্র
মিজবাহ উদ্দিন ও জাবেদ হোসেন ইরফান।
লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তছলিমা খানম মিনু ২০২৪ সালে হামলা চালিয়ে মারধর করে বসতভিটা জবরদখলের অভিযোগে সি,আর ৯৯৩/২৪ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা দায়ের পর থেকে নানাবিধ হুমকি ধামকি ও নির্যাতণ সয়ে আসছিল মিনুর পরিবার। ততকালীন সরকারের আমলে প্রভাব কাটিয়ে ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে মামলা থেকে অব্যহতি নেওয়ার চেষ্টা চালায় এই আসামীদ্বয়।
পরে দীর্ঘ দিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত ২ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী করেন।
এই মামলায় মিজবাহ উদ্দীন কে আদালতে পাঠানো হলেও রহস্যজনক কারণে সাবেক ছাত্র লীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ হোসেন ইরফানকে এখনও আদালতে পাঠাইনি থানা পুলিশ।
মামলাটির বাদী তসলিমা খানম মিনু জানান - বেতন, ব্যাংক লোন এবং আত্মীয় স্বজন থেকে ধার নিয়ে তার বৈধ জায়গায় বাড়িটি নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন উপায়ে তার কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে মিজবাহ ও ইরফানের পরিবার। চাহিদা মতো টাকা না পাওয়ায় বারবার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালাতো এই দুই সহোদর।
এক পর্যায়ে হামলা চালিয়ে তাকে, তার স্বামী সন্তান এবং বোনদের মেরে রক্তাক্ত আহত করে প্রায় একদিন তাদের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে এই আসামীরা।
পরে উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন।
তছলিমা খানম মিনু আরও জানান, মিজবাহ উদ্দীন সেনাবাহিনীতে চাকরীরত অবস্থায় সেনাবাহিনী প্রভাব কাটিয়ে ভাইদের নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের বাইরে কেউ কথা বলার সাহস পেতো না। মিজবাহ উদ্দীন সেনাবাহিনীর এক মেজরের সীল জাল করে কাগজপত্র সাজিয়ে আদালতে জামিনের আবেদন করেন।পরে সীল জাল প্রমানিত হওয়ায় আদালত ও সেনা কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই সাহেদ উদ্দিন জানান, মিজবাহকে অত্র মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হলেও জাবেদ ইরফানর বিরুদ্ধে আরও কয়েক মামলা থাকায় যেগুলো সংযুক্ত করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
আসামী গ্রেফতার হওয়ার পরও আতংকে আছেন বাদী'র পরিবার। কখন জানি জামিনে এসে হামলা চালিয়ে তাদের জানে মেরে ফেলে এই আশংকায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মিনু'র পরিবার।
আসামীরা যাতে সহজে জামিনে না আসে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভুগী পরিবার।
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টো, নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম জুনাইদ উদ্দিন।
Design and Develop By Coder Boss