প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৫, ২০২৬, ৫:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৪, ২০২৬, ১:৪৭ পি.এম
ব্যবসায়ী,সরকারী ও ট্রাষ্টের অর্থ আত্মসাৎ,জমি জবরদখল করা বাসু নাথ আটক

চকরিয়া সংবাদদাতাঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সীমানাবর্তী পার্বত্য লামার ভন্ড,প্রতারক বাসু চন্দ্র নাথ গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ব্যবসায়ী টাকা আত্মসাৎ মামলায় তাকে আটক করেন পুলিশ।যার মামলা নং-৪৬৮/২৪ইং।
আটকের পরে তার স্বজন আর প্রতিবেশীরা তুলেন ধরেন নানান অভিযোগের কথা।অভিযোগ উঠে আসে,ব্যবসায়ী পার্টনার জিহাদির টাকা,মন্দির নামে আসা সরকারী বরাদ্দ আর কল্যাণ ট্রাষ্টের আত্মসাৎ সহ ভূয়া দলিল সৃজনে জমিদখল সহ মিথ্যা মামলায় হয়রানির মত গুরুতর অভিযোগ।এছাড়াও বাসু দর্জি হলেও,কখনো কবিরাজ,কখনো জাদুঘর আবার কখনো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক বলে দাবী করে।তবে তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই।
স্হানীয়রা জানান-বাসু চন্দ্র নাথকে আটকের পর তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের সিন্ডিকেটের প্রধান ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক শাহজাহান তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে মোটা অংকের উৎকোচ আর আদালতের বেঞ্চ সহকারী আর আইনজীবী ম্যানেজের অডিও ফাঁস হওয়াতে বিষয়টি নিশ্চিত হলেন তারা।বুঝা গেলে বাসুর বিশাল এক সিন্ডিকেট রয়েছেন বলে দাবী স্হানীয়দের।
আটক-বাসু চন্দ্র নাথ,লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের হায়দারনাশী এলাকার সনাতন চন্দ্র নাথের ছেলে।
বাসুর ব্যবসায়ী পার্টনার ও মামলার বাদী ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন নতুন বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ইমদাদুল ইসলাম জিহাদি জানান-আমার শাশুড় বাড়ী হায়দারনাশী হওয়াতে,সেখানে আসা-যাওয়াতে তার সিন্ডিকেট লোকের মাধ্যমে তার পরিচয়।সে তখন দর্জি কাজ করতো।পরে তার বন্ধুরা মিলে আমাকে অনেক দিন ফুসলাতে-ফুসলাতে আমি তাকে হায়দারনাশীর গুলিস্তান বাজারে কাপড়ের দোকান আর তার বাড়ীর পাশে জায়গা ক্রয় ব্যবসার জন্য ২১লাখ ৭৭হাজার দিয়েছিলাম।পরে সালিশকারকেরা মওকুফ করে আমাকে ১৪ লাখ ৪৮হাজার দিতে রায় দেন।পরে এক বছর হয়ে গেলেও,সে আমাকে লভ্যাংশ দিচ্ছেনা দেখে,আমি মূল্য টাকা ফেরত চাই।তখন বাসু চন্দ্র নাথ আমার জন্য লামা কোর্টে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।আমি দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে মিথ্যা,ভূয়া প্রমাণ করি।তারপর আমি তার জন্য এলাকার মেম্বার সহ ইয়াংছা আর্মি ক্যাম্পে নালিশ দিই।তখন আর্মি ক্যাম্পের সালিশে সে ৩শত টাকার নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে টাকা ফেরতদানে অঙ্গিকারনামা দেন।কিন্তু সে নিদিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে,তার সিন্ডিকেট লোক দিয়ে ফুসলিয়ে আমাকে নিয়ে শারিরীক আঘাত কিংবা মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়।তখন বিষয়টি আমি জানতে পারলে,সে নিজেকে আড়ালে রাখতে শুরু করে।বর্তমানে আমরা করা মামলায় তার বাড়ীঘর ক্রোকের আদের্শ দেন আদালত।সেই মামলায় গত ২৮ তারিখ তাকে পুলিশ আটক করে।পরে পুলিশ থেকে তাকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিয়ে আসার চেষ্টা চালায় পল্লী চিকিৎসক শাহজাহান সহ তার সিন্ডিকেট।থানা পুলিশ তাকে লামা কোর্টে সোপর্দ্দ করলে,সেখান থেকে বেঞ্চে সহকারীকে উৎকোচ দিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করে শাহজাহান।তার অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ করেন আটককৃত বাসু নাথের তার চাচাতো ভাই হৃদয় নাথের ছেলে শয়ন নাথ জানান-কালি মন্দিরের সেবাশ্রমের নামে একটি সমবায় সমিতি করেছিলাম।যেখানে প্রায় ৪০জন সদস্য ছিল।দীর্ঘ ৫বছর যাবৎ সমিতির কোন হিসাব দেয়নি,কারো টাকাও ফেরত দেয়নি।এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা জমা ছিল।সব টাকা বাসু আত্মসাৎ করে।সমিতির সদস্যরা টাকা ফেরত চাইলে তার সিন্ডিকেট দিয়ে নানানভাবে হয়রানি করতো।আমি এর সঠিক বিচার চাই বলে জানান।
একই এলাকার ধর্ম চরণ দের ছেলে সুমন জানান-মন্দিরের নামে আসা সরকারী বরাদ্দ আর ট্রাষ্টের টাকা বাসু আত্মসাৎ করেছে।টাকা চাইলে সে জাদুটোনা করতো আর হয়রানির মূলক সমাজের মানুষের নামে দু'টি মামলা করে,হয়রানি করেছেন বাসু।আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তার বিচার চাই বলে জানান।
একই এলাকার মতি লাল দের বৃদ্ধা মেয়ে ছায়া রাণী দে জানান-বাসু নাথ হায়দারনাশী আসার পর এলাকার লোকজনের সাথে ঝগড়াঝাটি লেগে এলাকায় সালিশ।সালিশে তাকে এলাকা ছেড়ে তার এলাকায় ফিরে যেতে নিদের্শনা বিচারকগণ।তখন আমি দয়া আর মায়া দেখিয়ে তাকে আমাকে জিম্মায় আমার বসত-ভিটায় অস্থায়ীভাবে জায়গা দিই।সেই সুযোগে তাকে স্হান দেওয়া জায়গাটি আমার ভাই থেকে ক্রয় করেছে বলে ভূয়া দলিল সৃজন করে,আমার নামে মামলা করে।গোপনে সে মামলা ওয়ারেন্ট করায়,হঠাৎ রাতে পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।আমি দীর্ঘদিন জেল কেটে দীর্ঘ ৫বছর পর মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ করায় খালাস পাই।আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
মন্দির করা গীতা স্কুলের শিক্ষক ওই এলাকার পেটুল দের ছেলে সজল দে জানান-মন্দির আর স্কুলের নামে আসা সরকারী আর ট্রাষ্টের বরাদ্দের টাকা প্রতিমাসে আমার আর সভাপতির সিগনেচার নকল করে উত্তোলন করতো।পরে সেই টাকা বাসু ব্যবসার করতো।পরের আমরা বিষয়টি জানতে পারলে,তার কাছ থেকে বিষয় জানার জন্য গেলে,সে সময় নিয়ে তার বাহিনী প্রথম হুমকি-ধমকি পরে মিথ্যা মামলায অনেক জড়িয়ে হয়রানি করেও,আত্মসাৎ কৃত টাকা এখনো ফেরত দেয়নি।আমি টাকা ফেরত সহ তার উচিত মত বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
ওই এলাকার বর্তমান মেম্বার হেলাল উদ্দিন আর সাবেক ৪বারের মেম্বার শফিউল আলম জানান-বাসু একজন দর্জি লোক।সে ইসলামপুর এলাকার জিহাদি নামক এক ছেলে থেকে প্রায় ৩০/২৫লাখ পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তি করে নিয়ে কাপড় দোকান দিয়েছিল জানতাম।পরে তাকে কিছু টাকা দিলেও মূনাফার সিংহভাগ টাকা না দিয়ে উল্টো তার মিথ্যা মামলা দেয়।তখন গ্রাম্য সালিশ আর আর্মি ক্যাম্পের সালিশে বাকী দিবে বলে অঙ্গিনামা দিযেও,টাকা ফেরত দেয়নি বলে জেনেছি।সে প্রতারক,ভন্ড,জাদুঘর বা বৈদ্য।বর্তমানে এলাকাতে তার বিশাল একটি অবৈধ ব্যবসার সিন্ডিকেট রয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন এবং তার এসব বিচারও এলাকার লোকজন দিয়েছিল।সে বর্তমানে এরেস্ট হয়েছে।তাকে ছাড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছেন তার সিন্ডিকেট।এক কথায় এমন প্রতারকের উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার বলে জানান তারা।
সরেজমিনে গেলে সংবাদে প্রকাশকারী সহ স্হানীয়রা জানান-বাসু নাথে গুলিস্তান বাজার একটি মায়াবী টেইলাসের দোকান আছে,যা
🔴প্রধান উপদেষ্টাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টো, 🔴নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম জুনাইদ উদ্দিন,
বার্তা সম্পাদকঃ এইচ এম হাছিব তাজোয়ার
Design and Develop By Coder Boss